মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রামে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট এখন শুধু ভোগান্তির বিষয় নয়, বরং রহস্য ও ক্ষোভে ঘেরা এক বিস্ফোরক বাস্তবতায় রূপ নিয়েছে। জেলার অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে, অথচ একই সময়ে খোলা বাজারে চড়া দামে অবাধে বিক্রি হচ্ছে পেট্রোল ও অকটেন। এই দ্বৈত চিত্রে সাধারণ মানুষের মুখে একটাই প্রশ্ন—পাম্প ফাঁকা, বাজারে তেল—কার খেলা?
জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড, কোথাও বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে রাখা হয়েছে পাম্প। যেসব পাম্পে অল্প তেল আসে, সেখানে ভোর থেকেই মোটরসাইকেল, ইজিবাইকসহ নানা যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই ফিরছেন খালি হাতে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন মোটরসাইকেল চালকরা—জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েও মাঝপথে আটকে পড়ছেন জ্বালানি সংকটে।
পাটেশ্বরী এলাকায় একটি পাম্পে তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা সড়ক অবরোধ করলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা সংকটের তীব্রতা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
সংকটের মধ্যেই সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—খোলা বাজারে তেলের সহজলভ্যতা। প্রতি লিটার পেট্রোল ও অকটেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সরকারি দামের দ্বিগুণেরও বেশি। মোটরসাইকেল চালক এমরান নেছারী বলেন, “পাম্পে গেলে বলে তেল নেই, কিন্তু দোকানে গেলেই পাওয়া যায়—এটা স্পষ্ট সিন্ডিকেট।”
ইজিবাইক চালক ছাইফুল ইসলাম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাম্পে ঘুরি, তেল পাই না। অথচ বাজারে ঠিকই পাওয়া যাচ্ছে—প্রশাসন দেখেও যেন দেখছে না।”
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেলায় দৈনিক প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ লিটার জ্বালানির চাহিদা থাকলেও বর্তমানে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ৫০ হাজার লিটারে। পেট্রোল ও অকটেনের ক্ষেত্রে চাহিদা ৪০-৬০ হাজার লিটার হলেও সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩-৪ হাজার লিটার।
পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সেক্রেটারি জামান আহমেদ কাজল বলেন, “সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী তেল দিতে পারছে না। অল্প যে তেল আসে, তা দ্রুত শেষ হয়ে যায়।”
অন্যদিকে চালকদের অভিযোগ—একটি অসাধু চক্র পাম্প থেকে তেল সরিয়ে রাতের আঁধারে লাইসেন্সবিহীন দোকানে বিক্রি করছে। যদিও পাম্প মালিকরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে মনিটরিং ও অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও মাঠপর্যায়ে তার দৃশ্যমান প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, মাঝে মাঝে অভিযান হলেও কালোবাজার বন্ধ হয়নি।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানিয়েছেন, “ফিলিং স্টেশনগুলো নিয়মিত পরিদর্শনে রয়েছে।
সংকট নিরসনে সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে।”
তবে সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা—কঠোর ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে কুড়িগ্রামের জ্বালানি সংকট আরও গভীর আকার ধারণ করতে পারে।


















