সুন্দরবনে শুষ্ক মৌসুমে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড রোধে বনবিভাগ বিশেষ সতর্কতা হিসেবে বনের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পানি ছিটিয়ে বা ভিজিয়ে দিচ্ছে। ড্রোন নজরদারি, ফায়ার লাইন (মাটি কেটে আগুন বিচ্ছিন্ন করা) তৈরি এবং সেচপাম্প ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধের কাজ চলছে। এছাড়াও, আগুন লাগলে তা দ্রুত নেভাতে বন সংলগ্ন এলাকায় নদী ও খালের পানি প্রবাহ সচল রাখার পাশাপাশি নদী ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: শুকনো পাতা ও জ্বালানি থেকে আগুন ছড়ানো রোধে বনের মাটি পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
সতর্কতা: বনবিভাগ সন্দেহভাজন এলাকায় টহল জোরদার করেছে এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট ও পোস্টার বিতরণ করছে।এ ছাড়াও বিড়ি-সিগারেট, ম্যাচ-লাইটার বা কোন প্রকার বিষ্ফোরক কিংবা দ্যয্য পদার্থ নিয়ে বনে প্রবেশ নিষিধ্য সহ সকল প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে।
কার্যক্রম: অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি কমাতে ফায়ার লাইন তৈরি এবং নদীর পানি ব্যবহার করে ফায়ার সার্ভিস ও বনকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করছে।
এর আগে, ২০২৩ ও ২০২৪ সালে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের পর এই বিশেষ ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।
সুন্দরবনে শুষ্ক মৌসুমে অগ্নিকাণ্ড রোধে বনবিভাগ বর্তমানে অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্দেশনা অনুযায়ী, জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ কোনো বনজীবী বা দর্শনার্থী আগুন, বিড়ি-সিগারেট বা কোনো ধরনের দাহ্য পদার্থ নিয়ে বনে প্রবেশ করতে পারবেন না।
এই সচেতনতা নিশ্চিত করতে বনবিভাগ নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করেছে:
* মাইকিং ও প্রচার: সুন্দরবনের নাংলী, চাঁদপাই ও শরণখোলা রেঞ্জসহ বিভিন্ন স্টেশনের আওতাধীন লোকালয় ও বনসংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধিতে লিফলেট বিতরণ ও পোস্টার প্রদর্শনের কাজও চলছে।
* প্রবেশপথে তল্লাশি: বনের বিভিন্ন প্রবেশপথ যেমন—জিউধরা, চিলা, জয়মুনি ও কপিলমুনিতে বনকর্মীরা নিবিড় তল্লাশি চালাচ্ছেন যেন কেউ ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে দাহ্য বস্তু ভেতরে নিতে না পারে।
* নিষেধাজ্ঞা ও আইনি ব্যবস্থা: দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বনবিভাগ সতর্ক করেছে যে, এই নিয়ম অমান্য করলে বা বনের ভেতর আগুন জ্বালালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
* অতিরিক্ত নজরদারি: ড্রোন ব্যবহার করে বনের গহীনে নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং ফায়ার লাইন তৈরির মাধ্যমে আগাম সুরক্ষা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে বারবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার তদন্তে দেখা গেছে, অসতর্কভাবে ফেলা বিড়ি-সিগারেটের অবশিষ্টাংশ বা মৌয়ালদের ব্যবহৃত মশাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছিল, যে কারণে এবার এই আগাম সতর্কতা।
রবি ডাকুয়া,বাগেরহাট


















