ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য স্থল অভিযান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হওয়ায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেছেন, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়ে ইরান মোটেও ভীত বা উদ্বিগ্ন নয়; বরং তারা মার্কিন স্থলবাহিনীর জন্য অপেক্ষা করছে।
গতকাল (৫ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি জানান, মার্কিন বাহিনীকে মোকাবিলা করার পূর্ণ সক্ষমতা ইরানের রয়েছে। এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা ওয়াশিংটনের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়ে পরিণত হতে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
যুদ্ধবিরতির প্রসঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনকে যুদ্ধবিরতির কোনো প্রস্তাব দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ২০২৫ সালের জুন মাসে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের ১২ দিনব্যাপী যুদ্ধ চলেছিল, তখনও ইরান কোনো নতি স্বীকার করেনি বা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়নি। বরং সে সময় সংঘাত শুরু করা দেশ ইসরায়েলই আগে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, জেনেভায় পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সংলাপ চলাকালে যুদ্ধের পূর্বাভাস পাওয়া গেলেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইরান কোনো আপস করেনি।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে টানা ২১ দিন সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা হয়নি। সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরদিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে।
বর্তমানে ইরানে চলমান এই যুদ্ধ ষষ্ঠ দিনে গড়িয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষ নিহত এবং পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।


















