মো: পারভেজ সরকার, রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা ইউনিয়ন পরিষদ- এ অবকাঠামো উন্নয়ন খাতের বরাদ্দের অর্থে কেনা একটি মোবাইল ফোনের হদিস মিলছে না। কাগজে-কলমে ক্রয়ের তথ্য থাকলেও সরেজমিনে তা পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে অবকাঠামো উন্নয়ন খাতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্প নথিতে একটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন ও একটি প্রিন্টার কেনার কথা উল্লেখ রয়েছে। নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের কথা বলে এসব সরঞ্জাম ক্রয় দেখানো হয়।
তবে সম্প্রতি পরিষদ কার্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে একটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার পাওয়া গেলেও মোবাইল ফোনটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (সচিব) আল আমিন সেখ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় তিনি একটি ল্যাপটপ ও একটি প্রিন্টার বুঝে পেয়েছেন। মোবাইল ফোনের বিষয়ে তিনি কিছুই পাননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাবেক ইউপি সচিব মো. মাহবুবুর রহমান প্রকল্পের অর্থে মোবাইলটি কেনেন। একটি ল্যাপটপ থাকার পরও অতিরিক্তভাবে মোবাইল কেনার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মচারী বলেন, “সরকারি টাকায় কেনা জিনিস জনগণের সেবায় ব্যবহার না হলে সেটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়।” স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাবেক সচিব বর্তমানে অন্যত্র কর্মরত এবং মোবাইলটি তাঁর কাছেই রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, মোবাইলটি তাঁর কাছে আছে, তবে সেটি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সার্ভিসিং সেন্টারে দেওয়া হয়েছে। ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেবেন।
বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, মোবাইলটি কোথায় আছে তা খতিয়ে দেখা হবে।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য না দিলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে জানান।
এলাকাবাসীর দাবি, জনগণের অর্থে কেনা সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত ব্যবহারে রাখা এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় তা ফেরত না দেওয়া প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।


















