মোঃ পারভেজ সরকার-
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট। সেই পোস্ট থেকেই বদলে গেল একটি অসহায় পরিবারের জীবনের দৃশ্যপট।
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া ইউনিয়নের চর তেলিজানা গ্রামের একটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছিল। পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আব্দুল মোতালেবের অকাল মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে সংসার। বৃদ্ধা মা আসমা বেগম ও বিধবা স্ত্রী খালেদা খাতুন দুই সন্তানকে নিয়ে চরম অভাব-দারিদ্র্যের মধ্যে জীবনযাপন করছিলেন। অর্থাভাবে শিশুদের পড়াশোনাও নিয়মিত চালানো সম্ভব হচ্ছিল না।
এই দুর্দশার কথা প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী কাজল দাস। তাঁর পোস্টটি নজরে আসে সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাসের। পরে তিনি বিষয়টি প্রবাসী সুইটি আক্তারকে অবহিত করেন।
মানবিক এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রবাসী সুইটি আক্তার পরিবারটির জন্য নগদ ৭০ হাজার টাকা পাঠান। অর্থ সহায়তা হাতে পেয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে ফুটে ওঠে স্বস্তির হাসি।
সমাজকর্মী মামুন বিশ্বাস জানান, প্রবাসীর পাঠানো সহায়তা সরাসরি পরিবারের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পরিবারটিকে ছয়টি উন্নত জাতের ছাগল দেওয়া হয়েছে। খাদ্য সহায়তার অংশ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ১০০ কেজি চাল, মাছ, মুরগি, ভোজ্য তেল, ডাল, চিনি, খেজুর, মুড়ি ও প্রয়োজনীয় মসলা। কেনাকাটার পর অবশিষ্ট ১৩ হাজার ১৫ টাকা নগদও পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
সহায়তাপ্রাপ্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, মানুষের সহানুভূতি তাঁদের জীবনে নতুন করে বাঁচার আশা জাগিয়েছে।
বৃদ্ধা আসমা বেগম বলেন, এমন সহায়তা আমাদের জন্য আশীর্বাদ। দুই নাতির পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া এবং পরিবারকে স্বাবলম্বী করার পথ খুলে গেছে।
স্থানীয়দের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগালে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও প্রবাসীদের সমন্বয়ে অসহায় পরিবারগুলো দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তাঁদের আশা, এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে


















