ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা বিভাগে সীমিত আসন পেলেও বাগেরহাটে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পেয়েছে বিএনপি। জেলার চারটি আসনের মধ্যে আলোচিত ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনটি ধানের শীষ প্রতীকে জয় করেছে দলটি। দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রকাশিত বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, ১০৬টি কেন্দ্রের গণনায় লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ৩ হাজার ৭১১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ পেয়েছেন ৮৩ হাজার ১০৫ ভোট। ফলে ২০ হাজার ৬০৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন বিএনপির এই প্রার্থী।
এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৫০, নারী ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫১০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিলেন ৪ জন।
মোংলা-রামপাল আসনটি দেশের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় সমুদ্রবন্দর, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড), বৃহৎ সাইলোসহ একাধিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন-এর নিকটবর্তী হওয়ায় পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে এ আসনের।
এর আগে এই আসন থেকে একাধিকবার নির্বাচিত হন তালুকদার আব্দুল খালেক, যিনি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তার স্ত্রী হাবিবুন নাহার পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান।
লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম স্থানীয়ভাবে সমাজসেবক ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত। চক্ষু চিকিৎসা সেবা, নিপীড়িত নেতাকর্মীদের সহায়তা এবং করোনাকালে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য তিনি এলাকায় ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন।
বিজয়ের পর তিনি ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন। পাশাপাশি মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
স্থানীয়দের অভিমত, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দরকেন্দ্রিক আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলে মোংলা-রামপাল অঞ্চলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো অধিক কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে।


















