নতুন মন্ত্রিসভার শপথ আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।
ড. শেখ আব্দুর রশীদ বলেন, “১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অনুষ্ঠানে প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।”
তবে শপথ ১৭ না ১৮ ফেব্রুয়ারি—সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। বলেন, “যেদিন ও যে সময়ে নির্দেশনা দেওয়া হবে, আমরা সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেব। আগাম কোনো তারিখ এখন বলা যাচ্ছে না।”
মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা প্রসঙ্গে সচিব বলেন, এটি নির্ভর করবে সংসদ নেতা তথা সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর। তিনি কতজনকে মন্ত্রী হিসেবে নিতে চান, সেটিই চূড়ান্ত হবে।
১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এমপিদের শপথ
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, জাতীয় সংসদের ২৯৭ জন নির্বাচিত সদস্যের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। আইন অনুযায়ী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তাদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে হবে। সেই হিসেবে ১৫, ১৬ ও ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণের সম্ভাব্য সময়।
তিনি বলেন, “১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সংসদ সদস্যদের শপথ সম্পন্ন হবে। এরপর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা তাদের নেতা নির্বাচন করবেন। সেই নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানালে, রাষ্ট্রপতি নিয়ম অনুযায়ী তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।”
এর আগে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের শপথ ১৬–১৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
২৯৭ এমপির গেজেট প্রকাশ
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরউদ্দিন-এর নেতৃত্বে কমিশনের অনুমোদনের পর সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা গেজেট প্রকাশ করা হয়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনার কারণে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ আসনের ফলাফলের গেজেট এখনও জারি হয়নি।
গণভোট ও নির্বাচনের ফলাফল
ইসি ঘোষিত ফল অনুযায়ী, মোট ভোটার ছিলেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। ভোটগ্রহণের হার ছিল ৬০.২৬ শতাংশ।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭ ভোট।
৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ঘোষিত ২৯৭ আসনের ফলে দেখা যায়—
- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পেয়েছে ২০৯টি আসন
- বিএনপির শরিকরা পেয়েছে ৩টি আসন
- বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন
- জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের অন্য শরিকরা পেয়েছে ৯টি আসন
- স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন ৭টি আসনে
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পেয়েছে ১টি আসন
ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন।


















