কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী–খোকসা) আসনে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিএনপির ৩ কর্মীকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মাশালিয়া বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
বিএনপির অভিযোগ, জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাদের ৪ জন কর্মীকে আহত করে। এর মধ্যে ৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অপরদিকে জামায়াতের দাবি, বিএনপির হামলায় তাদের ৩ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা ভোট চাইতে গেলে এক ভোটারের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি মীমাংসার জন্য বুধবার সকালে মাশালিয়া বাজারে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সালিশে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হলেও বৈঠক শেষে হঠাৎ কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “সালিশে মীমাংসা হওয়ার পর হঠাৎ করেই জামায়াতের কর্মীরা লাঠি, কুড়াল ও হাতুড়ি নিয়ে আমাদের উপর হামলা চালায়। এতে আমাদের কর্মী রিন্টু, তুহিন ও নিজাম উদ্দিন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”
অন্যদিকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আকমল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “মিটিং শেষে হাত মেলানোর সময় বিএনপির এক কর্মী আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়। এতে আমাদের ৩ জন কর্মী আহত হন। আমরা কোনো অস্ত্র ব্যবহার করিনি।”
খোকসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত মোশাররফ হোসেন জানান, “বিএনপি ও জামায়াতের সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষের আহত রয়েছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”


















