আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ-সলঙ্গা আংশিক) আসনে এবারের নির্বাচনের দৃশ্যপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দেওয়ালে নেই পোস্টার, গাছে ঝোলানো নেই ব্যানার কিংবা বিদ্যুতের খুঁটিতে নেই রঙিন ফেস্টুন। নির্বাচন এলেই যে চিরচেনা চিত্র চোখে পড়ত, তার অনুপস্থিতিতে শহর ও গ্রাম-উভয় এলাকাতেই ফিরেছে এক অভূতপূর্ব পরিচ্ছন্নতা।
পরিবেশের জন্য এটি ইতিবাচক হলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোটের চিরাচরিত উৎসবমুখর আমেজে কিছুটা ভাটা পড়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কঠোর নির্দেশনায় এবার পোস্টার ও অপচনশীল সব ধরনের প্রচারসামগ্রী পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে রায়গঞ্জ, তাড়াশ ও সলঙ্গা এলাকার সর্বত্র দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রার্থীরা এখন প্রচার চালাচ্ছেন মাইকিং, ব্যক্তিগত শুভেচ্ছা বিনিময়, গণসংযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে। এ আসনের সুধীজন ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ বলছেন, পোস্টার না থাকায় প্রার্থীদের সম্পর্কে জানার সুযোগ কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের প্রবীণ ও নিম্ন আয়ের ভোটাররা যারা ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে- তারা কিছুটা বিভ্রান্তিতে পড়েছেন। রায়গঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বলেন, অনলাইনের প্রচার বয়স্ক মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।
চান্দাইকোনা ইউনিয়নের খোকসা হাট এলাকার প্রবীণ ভোটার বিনয় রায় বলেন, আমার স্মার্টফোন নেই। পোস্টার না থাকায় বুঝতেই পারি না কে প্রার্থী। মাঝে মাঝে মাইকিং শুনলে শুধু বোঝা যায় ভোট আসছে।
এ বিষয়ে রায়গঞ্জ উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব নির্বাচন নিশ্চিত করতেই পোস্টার ও ব্যানার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটারদের তথ্য জানাতে প্রার্থীদের উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও মাইকিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ভিপি আয়নুল হক, দশ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী মুফতি আব্দুর রউফ, স্বতন্ত্রের ইলিয়াস রেজা রবিন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. ফজলুল হক ডনু বলেন, পোস্টার না থাকলেও আমরা জনগণের দোরগোড়ায় গিয়ে কথা বলছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমেই তাদের কাছে আমাদের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। তবে গ্রামাঞ্চলের অনেক ভোটার এখনও ডিজিটাল প্রচারণার বাইরে থাকায় গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক আরও বাড়ানো প্রয়োজন হচ্ছে।
পোস্টারহীন এই নির্বাচন একদিকে যেমন পরিবেশ রক্ষায় নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, অন্যদিকে ভোটের চেনা আমেজ হারিয়ে ফেলায় ভোটারদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে কী প্রভাব পড়ে সেদিকেই এখন নজর স্থানীয়দের।


















