সারা দেশে নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারী নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হেনস্তার প্রতিবাদে আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির মহিলা বিভাগের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো নারী নেতা-কর্মীদের একটি বিশাল জমায়েত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে দলটি। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন। জাতীয় নির্বাচন ও বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের অভিযোগ করেন, দেশজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় জামায়াতের মহিলা বিভাগের নেতা-কর্মীরা বিএনপির পক্ষ থেকে হামলা, হেনস্তা ও ভয়ভীতির শিকার হচ্ছেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সমাবেশের মাধ্যমে এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্য প্রতিবাদ জানানো হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন ও সরকার এসব বিষয়ে কর্ণপাত না করে, তবে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে এবং ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যও এ নিয়ে মাঠে নামবে।
রাজনৈতিক দলে নারী প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে আরপিওর বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে নায়েবে আমির দাবি করেন, একমাত্র জামায়াতই ৩৩ শতাংশ নারীর প্রতিনিধিত্বের শর্ত পূরণ করতে পেরেছে। প্রতিপক্ষরা জামায়াতে নারীদের গুরুত্ব কম বলে যে অপপ্রচার চালাচ্ছে, তা সত্য নয়। তিনি আরও বলেন, দেশে জামায়াতের নারী সমর্থক বেশি হওয়ায় তাঁদের ভোটও বেশি। নারীরা শান্তিপ্রিয় এবং তাঁরা উচ্ছৃঙ্খলতা পছন্দ করেন না বলেই জামায়াতকে বেছে নেন।
জামায়াতের শীর্ষ এই নেতা আরও উল্লেখ করেন, সারা দেশে জামায়াতের নারী কর্মীদের সক্রিয়তা দেখে প্রতিপক্ষরা ভীত হয়ে পড়েছে এবং তাঁদের কর্মকাণ্ড প্রতিপক্ষের প্রচারণাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেখেই এই আক্রমণ চালানো হচ্ছে। নারীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব সরকারের হলেও যারা নারীদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার, তারাই রাজনৈতিক কারণে এখন হামলা চালাচ্ছে। এমনকি জামায়াতকে ভোট দিলে জিহ্বা ও হাত কেটে রাখার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এসব হামলার সঙ্গে বিএনপির লোকজন জড়িত।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম মাছুম, প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য ওলিউল্লাহ নোমানসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
















