টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে বিএনপির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় যুবদল নেতাসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা গুরুতর।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর শহরের শান্তিকুঞ্জ মোড়ে এই ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, টাঙ্গাইল-৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিকেলে সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর ১০-১২ জন সমর্থক একটি কর্মসূচির দাওয়াত দিতে বের হন। ফেরার পথে তারা শান্তিকুঞ্জ মোড়ের একটি চা-স্টলে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় ফরহাদ ইকবাল সেখানে উপস্থিত হয়ে তার সমর্থকদের উসকে দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়।
এই ঘটনায় ওয়ার্ড যুবদলের সহ-সভাপতি সাব্বির আহমেদ সাদিসহ অন্তত ছয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুইজনকে টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের একজনের মাথায় একাধিক সেলাই দিতে হয়েছে, একজনের পা ভেঙে গেছে এবং আরও দুইজনের হাতে গুরুতর আঘাত রয়েছে।
জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হক সানু অভিযোগ করে বলেন, পুলিশের এক এসআইকে সঙ্গে নিয়ে অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল এই হামলা চালিয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।” এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বাংলা ভয়েসকে বলেন,“এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। প্রকৃতপক্ষে বিগত দিনে যারা আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল এবং শান্তিকুঞ্জ মোড়ে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হামলা চালিয়েছিল, তাদের নিয়েই একজন প্রার্থী নিজস্ব বাহিনী তৈরি করেছেন।
আজ দুপুরে আমার বাসার দিকে নেতাকর্মীরা আসছিল। তাদের দেখে উসকানিমূলক ও কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেয়। বিষয়টি শোনার পর আমি সেখানে এগিয়ে যাই এবং আমার সাথে কিছু সমর্থকও ছিল। সেখানে শ্রমিকদের সাথে আওয়ামী-যুবলীগের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই।
এরা চিহ্নিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী, শুধুমাত্র ভোটের মাঠ দখলের জন্য তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। আমি চাই নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও সার্থক হোক। তবে আওয়ামী-ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করে নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে বিএনপির নেতা-কর্মীরা তা মেনে নেবে না।”
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছিল। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।


















