মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেনারেল সদর হাসপাতালে নাইট ডিউটি চলাকালে স্বামীর কাছ থেকে স্ত্রীকে আলাদা করে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা-পুলিশ।
রোববার দিবাগত রাতের এ ঘটনার পর আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে তিনি তার স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে নিজস্ব চার্জিং ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ভ্যানের চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় তারা সদর হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন।
এ সময় হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন ও আবু সাঈদ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে দম্পতিকে হাসপাতালের ভেতরে নিয়ে যান। পরে হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচতলায় স্বামীকে বসিয়ে রেখে দ্বিতীয় তলায় ভুক্তভোগী নারীকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ভয়ভীতি দেখিয়ে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্য পালাক্রমে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী নারী নিচতলায় নেমে স্বামীকে পুরো ঘটনা জানালে স্থানীয়দের সহায়তায় তারা সদর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা সব আনসার সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে আনলে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত দুই সদস্যকে শনাক্ত করেন। এরপর পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের সহকারী কমান্ডার অভিযোগের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, মধ্যরাতে ঘটে যাওয়া এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কথা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে অভিযুক্তরা যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে রাতেই আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভুক্তভোগী নারী যেন যথাযথ চিকিৎসা পান, সে বিষয়টি তদারক করতেই তিনি হাসপাতালে এসেছেন।
সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান, হাসপাতালের ভেতরে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী সদর থানায় অভিযোগ করেছেন। পুলিশের নির্দেশে তার মেডিকেল পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে জেলা কমান্ড্যান্টের কার্যালয়ের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হাসপাতাল প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।


















