একদিনের বিরতির পর আবারও কুড়িগ্রামে জেঁকে বসেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কুয়াশা কিছুটা কেটে গেলেও হিমেল বাতাসে হাড় কাঁপানো শীতে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে জনজীবন।
জানুয়ারি শুরুর পর থেকেই জেলায় শীতের প্রকোপ বেড়েই চলেছে। মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে চারপাশ। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭–১৮ ঘণ্টাই তীব্র ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। কাজ বন্ধ থাকায় অনেকে পড়েছেন চরম সংকটে।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সফিকুল বলেন অতিরিক্ত শীতের প্রভাবে মোর একটা ছোট বাচ্চা জ্বর,সর্দি,কাশিতে কয়েকদিন থেকে ভুগতেছে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সাইদুর রহমান জানান সরকারিভাবে দুইশত কম্বল পেয়ে বিতরণ করলেও যা চাহিদা তুলনায় অপরতুল। তিনি সরকারি ও বেসরকারিভাবে ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জোর দাবি জানান।
শীতের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়াল ডাঙা ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকার কৃষক আব্দুল খালেক জানান,“প্রচণ্ড ঠান্ডায় আলুর ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা বাড়তি খরচ করে ওষুধ দিতে হচ্ছে। ন্যায্য দাম না পেলে বড় লোকসানে পড়বো।”
একই এলাকার কৃষি শ্রমিক আবুল হোসেন বলেন,“শীতে বোরো বীজতলা নষ্ট হচ্ছে। এভাবে চললে ইরি আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় ইতোমধ্যে ৫৩ হেক্টর জমির বীজতলা কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে।এদিকে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। শিশু, নারী ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন স্বপন কুমার বিশ্বাস বলেন,“শীতজনিত রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। জেলার ৯টি উপজেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।”
রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবে চন্দ্র সরকার জানান,“রোববার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৯ শতাংশ। বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে।” আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে।

















