আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল–সখিপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও লাবীব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে টাঙ্গাইল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) মির্জাপুর উপজেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা মো. সুজন মিয়া বাদী হয়ে টাঙ্গাইল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খাঁনের আদালতে আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ৪/৫ ধারায় মামলার আবেদন করেন।
আদালত আবেদনটি আমলে নিয়ে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জকে অভিযোগকারী কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। মামলায় সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলকে অষ্টম আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ মামলায় মোট ৪৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও অজ্ঞাতনামা ১৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার প্রধান আসামি হিসেবে টাঙ্গাইল-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য খান আহমেদ শুভর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক তাহারিম হোসেন সীমান্ত, তার ব্যক্তিগত সহকারী মীর আসিফ অনিক, উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, গোড়াই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ (পশ্চিম) সভাপতি হাজী হুমায়ূন কবির এবং ছাত্রলীগ সদস্য খান আহমেদ জয়নাল।
মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়, সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং সাবেক সংসদ সদস্য ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ফজলে নূর তাপসের ব্যবসায়িক অংশীদার। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে অর্থ জোগানদাতা হিসেবেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ঢাকার পিলখানায় সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহে অর্থের যোগানদাতাদের তালিকায়ও তার নাম শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রীয়ভাবে শিগগিরই প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, সখীপুর ও বাসাইল উপজেলায় একাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, ভূমি দখল, রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলায় অর্থ জোগান দেওয়ার অভিযোগে পৃথক পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


















