আওয়ামী লীগের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, সুতরাং দলটি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
প্রেস সচিব বলেন, যেহেতু আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বাদ দিয়েছে, সেহেতু আওয়ামী লীগ এ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে অন্তর্বর্তী সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা বলা হয়। তখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ। সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুযায়ী এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়।
আগামী ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে সরকারের অবস্থান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) ফরেন সার্ভিসা একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে কথা বলেন।
রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ নিয়ে মার্কিন পাঁচ আইনপ্রণেতার চিঠি এসেছে, এ বিষয়ে সরকার কী ভাবছে, এক সাংবাদিকের থেকে আসা এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা এই চিঠিটা… আমি অন্তত দেখি নাই। আমি এই বিষয়ে জানি না। কিন্তু আওয়ামী লীগের বিষয়ে আমাদের সরকার অবস্থান স্পষ্ট যে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করা আছে এবং নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগের পার্টি হিসেবে রেজিস্ট্রেশন বাদ দিয়েছে। সে জন্য আওয়ামী লীগ এই ইলেকশনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।’
প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে লেখা মার্কিন পাঁচ আইনপ্রণেতার চিঠিতে তারা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে অবাধ ও সুষ্ঠু পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়, ‘রাজনৈতিক সংকটের এ সময়টাতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ করাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এর মধ্য দিয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে। আর এটা ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে দেশের জনগণের মতামত প্রকাশে সহায়ক হবে। সেই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সততা আর দলনিরপেক্ষতার প্রতি আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারেও ভূমিকা রাখবে। কিন্তু আমরা এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন, সরকার যদি রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যক্রম স্থগিত করে বা ত্রুটিপূর্ণ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবার চালু করে—তবে এসব করা যাবে না।’
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে মঙ্গলবার এ চিঠিটি লেখেন মার্কিন পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য (কংগ্রেসম্যান) গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস, বিল হুইজেনগা, সিডনি কমলাগার-ডোভ, জুলি জনসন ও টম আর সুওজ্জি। এরমধ্যে গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস প্রতিনিধি পরিষদের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির সদস্য। বিল হুইজেনগা ও সিডনি কমলাগার-ডোভ যথাক্রমে প্রতিনিধি পরিষদের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক উপকমিটির চেয়ারম্যান ও সদস্য। এ চিঠি গতকাল ‘হাউস ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির’ ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়েছে।


















