আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনামলে টাঙ্গাইল বিএনপি যে সময়টিতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতন ও দমনপীড়নের মুখে পড়েছিল, সেটি ছিল ২০১৪ সালের রাতের ভোটের পরবর্তী সময়।
সেই কঠিন সময়ে জেলার বিএনপির হাল ধরেন অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল।
জেল-জুলুম, মামলা-হামলা মাথায় নিয়ে তিনি দলের নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখেন বলে দাবি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের। সরকার পরিবর্তনের পর থেকে এখন টাঙ্গাইলের রাজনীতিতে চলছে ভিন্ন ধরণের অস্থিরতা। তৃণমূলের অভিযোগ— একটি চক্র ফেক আইডি ব্যবহার করে ফরহাদ ইকবালের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, যা দলে বিভাজন সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করছে।
ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর বিএনপি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করে। এর পর থেকেই টাঙ্গাইলে বিএনপির রাজনীতিতে নেমে আসে বিশৃঙ্খলার ছায়া— ফরহাদ ইকবালকে নিয়ে শুরু হয় উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আলোচনা-সমালোচনা।

একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী ফরহাদ ইকবালের জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতায় ঈর্ষান্বিত হয়ে মিথ্যা গল্প তৈরি করছে। এভাবে ত্যাগী নেতাকে হেয় করলে দলেরই ক্ষতি হবে। এমনটাই মনে করেছেন বিএনপি’র নেতা কর্মীরা।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন বলেন,“যারা প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে তারা কোনো প্রকৃত আইডি থেকে পোস্ট দিচ্ছে না। যদি প্রমাণ থাকে, প্রকাশ্যে আসুক। এই কাজগুলো ইমেজ নষ্ট করা ছাড়া কিছু নয়।”
তিনি আরও বলেন,“মনোনয়নপ্রত্যাশী একাধিক প্রার্থী থাকা দলের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ, তবে এজন্য নোংরা রাজনীতি বা চরিত্রহনন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি ঐক্যবদ্ধ দল, এবং সবাই হাই কমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে চলবে।”
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বাংলা ভয়েস কে বলেন,“আমার রাজনীতি সবসময় দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের কেন্দ্র করে। আমি তাদের সাথেই থাকতে চাই এবং তাদের জন্যই কাজ করে যাচ্ছি। যেসব মিথ্যা অপপ্রচার চলছে, আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”
সূত্র বলছে, ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন ফরহাদ ইকবাল। ১৯৯০ সালে তিনি সরকারি মাওলানা মোহাম্মদ আলী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হন। ১৯৯১ ও ১৯৯৩ সালে ওই কলেজের ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৯ সালে টাঙ্গাইল জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এবং ২০০২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। একই বছর তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ঢাকা বিভাগের সহ-সভাপতি হন।
২০০৯ সালে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন শেষে ২০১৭ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি।
















