মোঃ শিহাব উদ্দিন, গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে অবস্থিত ‘শাপলা গেস্টহাউস’ ঘিরে সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোটেলটিতে দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক কার্যকলাপ চলছিল, যা এলাকায় ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকদিন আগে বিকেলের দিকে এক যুবক ও এক তরুণীকে অনৈতিক অবস্থায় হোটেল কক্ষের ভেতর থেকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে তারা কক্ষটি তালাবদ্ধ করে স্থানীয় মসজিদ কমিটির মুরব্বিদের খবর দেয়।
মুরব্বিরা জানান, বহুদিন ধরেই হোটেলটিকে ঘিরে সন্দেহের কথা শোনা যাচ্ছিল, এবার তারা হাতে-নাতে প্রমাণ পেয়েছেন।
ঘোনাপাড়ার ‘বীর প্রতীক’ লুৎফর রহমান মার্কেটে অবস্থিত এই হোটেলটির মালিক সালাউদ্দিন। মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি বিষয়টি নিয়ে সত্যিই লজ্জিত। আপাতত হোটেলটি বন্ধ রেখেছি। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে আমি সজাগ থাকব।”
একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “প্রতিদিন সকাল ৮টার দিকে খুলনা থেকে একটি কালো মাইক্রোবাস আসে। গাড়ি থেকে নামেন রঙিন পোশাকে, স্কুলব্যাগ হাতে মেয়েরা। দেখে মনে হয় স্কুল বা কোচিংয়ে যাচ্ছে। অথচ বাস্তবে তারা এখানে আসে দেহ ব্যবসার জন্য। সন্ধ্যায় গাড়িটি আবার এসে তাদের নিয়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিক। এই দেহ ব্যবসার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক।”
এছাড়াও গত শুক্রবার বিকাল ৪টায় গোবরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুরাদ বিশ্বাস স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকায় দেহ ব্যবসা, মাদক কিংবা চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। প্রয়োজনে প্রশাসনের সহায়তায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হোটেলটির কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ এবং অনৈতিক চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।


















