মোবাশ্বের নেছারী কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
চারপাশে অভাব-অনটনের অন্ধকার। তবু কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার চিনাবাড়ি গ্রামের একটি ঘরে জ্বলছে এক আশার আলোকবর্তিকা—শাহ মনি আক্তার জিম।
মেরুদণ্ডভাঙা দারিদ্র্যের মাঝেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মেধাবী এই শিক্ষার্থী। তার স্বপ্ন—একদিন সে হবেন একজন চিকিৎসক।
জিমের বাবা জহুরুল হক ছিলেন একটি ছোট পানের দোকানের মালিক। সেটিই ছিল সংসারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু মেরুদণ্ডের জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষম নন তিনি। চিকিৎসা চালাতে প্রতিদিন প্রয়োজন প্রায় ২০০ টাকা, যা জোগাড় করতেই হিমশিম খাচ্ছে পরিবার। দোকানটিও এখন বন্ধ। ছয় সদস্যের সংসারে নেমে এসেছে চরম দুর্দশা।
তবুও হার মানেনি জিম। বলল, “সংসারে অভাব ছিল সবসময়। কিন্তু বাবা-মা আর শিক্ষকদের উৎসাহে মন দিয়ে পড়াশোনা করেছি। আমি চাই ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করতে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।”
তার এই সাফল্যে যেমন উজ্জ্বল হয়েছে পরিবার, তেমনি আশঙ্কায় কাঁপছে ভবিষ্যতের চিন্তায়। বাবা জহুরুল হক বলেন, “মেয়েটা অনেক কষ্ট করে এতদূর এসেছে। কিন্তু সামনে কীভাবে তার পড়ালেখার খরচ চালাব, জানি না। কেউ যদি পাশে দাঁড়াত, তার স্বপ্নটা বাঁচত।”
মা রাশিদা বেগমের কণ্ঠেও উৎকণ্ঠা, “স্বামীর চিকিৎসা আর মেয়ের পড়াশোনা—দুটো একসঙ্গে চালানো অসম্ভব হয়ে উঠেছে। সহায়তা না পেলে জিমের পড়ালেখা থেমে যাবে, ভাবলেই বুকটা কেঁপে ওঠে।”
প্রতিবেশীরাও গর্বিত জিমের সাফল্যে। এক জন বলেন, “অভাবের সংসারে থেকেও মেয়েটা যে কীর্তি করেছে, তা অনন্য। কিন্তু সামনে তো আরও অনেক খরচ। যদি কেউ সহযোগিতা না করে, তার স্বপ্ন থেমে যেতে পারে।”
ফুলবাড়ী জছিমিঞা মডেল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার বলেন, “জিম আমাদের স্কুলের গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের একজন। আমরা শিক্ষকরা ব্যক্তিগতভাবে যতটা পেরেছি সাহায্য করেছি। কিন্তু তার উচ্চশিক্ষার জন্য দরকার বড় পরিসরের সহযোগিতা।”
জিমের মতো অদম্য প্রতিভার পাশে দাঁড়ানো মানে শুধু একটি মেয়ের ভবিষ্যৎ নয়, বরং একটি সমাজ ও দেশের সম্ভাবনার পাশে দাঁড়ানো। তার স্বপ্ন যেন নিভে না যায় অভাবের আঁধারে। সমাজের সহানুভূতিশীল মানুষের ভালোবাসা ও সহায়তা হতে পারে তার চোখের স্বপ্নপূরণের দীপ্ত আলো।


















