প্রতিবেদক: শাহ আলম সরকার
টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের মেডিকেল কলেজ ভবনে শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি হয়ে চরম অব্যবস্থা ও নাগরিক অপমানের শিকার হয়েছেন জুলাই আন্দোলনের নেত্রী ফাতেমা রহমান বীথি।
চিকিৎসা নিতে গিয়ে একজন রোগী হিসেবে যেভাবে সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
ফাতেমা বীথি জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর নিজেই বেড খুঁজে নিতে হয়, স্বজনকে দিয়ে স্যালাইন ধরাতে হয়, অনুরোধ করে খুঁজে আনতে হয় স্যালাইন স্ট্যান্ড। চাদর বা বালিশ চাইলে কর্তৃপক্ষ জানায়, “চুরি হয়ে যায়”। আর অভিযোগ করতে গেলে বলা হয়, “পরিচালকের সাথে কথা বলেন”। পরিচালককে ফোন দিলে তিনি প্রথমেই প্রশ্ন করেন, “আপনি কি সাংবাদিক নাকি রোগী?” বীথি উত্তর দেন “রোগী”—তারপরই ফোন কেটে দেন হাসপাতালের পরিচালক।
এই অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে ফাতেমা রহমান বীথি বলেন,
“রাষ্ট্রের এ এক নির্মম সত্য—আপনি যদি ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে দূরে থাকেন, তবে আপনার অস্তিত্বই মূল্যহীন। আমি যদি সাংবাদিক হতাম বা আমার পাশে কোনো এমপি-মন্ত্রী থাকত, তবে হয়তো ফোন কাটা হতো না। কিন্তু আমি একজন সাধারণ নাগরিক, যার করের টাকায় এই হাসপাতাল চলে।”
তিনি আরও বলেন,“স্বাস্থ্যসেবা এখন নাগরিক অধিকার নয়, বরং দয়ার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত আন্দোলনের পরও স্বাস্থ্যখাতে আজও গঠনমূলক কোনো সংস্কার আসেনি। আমি আশা করেছিলাম, অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার অন্তত হাসপাতালগুলোকে বদলাবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র অন্যরকম।
জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং সাধারণ মানুষের পক্ষে লড়াইরত এই নাগরিকের প্রশ্ন,
“অন্তর্বর্তী সরকার কত বছর ক্ষমতায় থাকলে আপনারা ‘সংস্কার’ দেখাতে পারবেন? কবে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নাগরিকদের জন্য হবে? কবে জনগণ ট্যাক্স দিয়ে সম্মান পাওয়ার অধিকার নিশ্চিতভাবে পাবে?” ফাতেমা রহমান বীথির অভিজ্ঞতা টাঙ্গাইল সদর হাসপাতালের চিত্র নয়, বরং দেশের অসংখ্য সরকারি হাসপাতালের নৈমিত্তিক বাস্তবতা। একজন সচেতন নাগরিক ও আন্দোলনকর্মী হিসেবে তিনি যা ভোগ করলেন, তা গোটা স্বাস্থ্যখাতের প্রতি এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দেয়।
সাম্প্রতিক অভ্যুত্থানের পর সরকারের গণমুখী সংস্কারের অঙ্গীকারের মধ্যে এই ঘটনা কতটা সঙ্গতিপূর্ণ—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।


















