মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ এর বিরুদ্ধে সেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, ঘুষ বানিজ্য, সহ পাহাড়সম দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
🔴 যোগদান করার পর থেকে দূর্নীতি চরমে
🔴 পছন্দের তালিকায় ৪/৫ জন পোষ্য ঠিকাদার
🔴 ৫℅ অগ্রীম ঘুষ নিয়ে কাজ দেন প্রকৌশলী
🔴 মানেনা কোন সরকারি নিয়মনীতি
🔴 প্রকৌশলীর সেচ্ছাচারিতায় অনেকে ক্ষুব্ধ
🔴 কাজ বঞ্চিত ঠিকাদাররা আন্দোলনে সরব
🔴 ওটিএম পদ্ধতিতে সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব
🔴 প্রকৌশলীর অপকর্মে সমালোচনার ঝড়
🔴 ক্ষোভে ফুসছে সচেতন মহল সহ সুশীল সমাজ
জানা গেছে, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ সাতক্ষীরায় যোগদান করার পর থেকে অতিমাত্রায় বেড়েছে ঘুষ নৈরাজ্য। অভিযোগ আছে, দূর্নীতি পরায়ণ ওই কর্মকর্তা তার নিজের পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন করে বরাদ্দের মোট টাকা থেকে ৫℅ হারে অগ্রীম ঘুষ নিয়ে কাজ পাইয়ে দেয়।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ “এলটিএম” (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) সীমিত দরপত্র পদ্ধতি লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করার নীতিমালা অনুসরণ না করে শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ সিদ্ধির নিমিত্তে কৌশলে খুলনা গণপূর্ত বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর “এল,টি,এম” প্যাকেজ পরিবর্তন আবেদনের মাধ্যমে কৌশলে সুপারিশ করে “ও,টি,এম” প্যাকেজের জন্য প্রস্তাবপত্র পাঠিয়ে দেন।
আবেদনের প্রেক্ষিতে পরবর্তীতে এলটিএম পদ্ধতির প্যাকেজ পরিবর্তন করে ওটিএম প্যাকেজ অনুমোদন দেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী। কারণ হিসেবে জানা যায় “এল,টি,এম” (লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড) সীমিত দরপত্র পদ্ধতি, যা লটারির মাধ্যমে ঠিকাদার নির্বাচন করা হয়। এক্ষেত্রে চাহিদা অনুযায়ী ঘুষ নিতে পারেনা নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ। “ওটিএম” (ওপেন টেন্ডারিং মেথড) উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি যা নির্বাহী প্রকৌশলী চাইলেই নিজের একক ক্ষমতা বলে যে কোন পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন করতে পারে।
এক্ষেত্রে তিনি পছন্দের ঠিকাদারের নিকট থেকে সহজেই মোটা অংকের ঘুষ বাগিয়ে নিতে সক্ষম হয়। এদিকে, এলটিএম প্যাকেজ পরিবর্তন করে “ওটিএম” প্যাকেজ করায় সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। এলটিএম পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করলে সরকার অনেক বেশি রাজস্ব পেয়ে থাকে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঠিকাদার অভিযোগ করে বলেন, সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ ১০ থেকে ২৫ লক্ষ টাকার প্রতিটি থোক বরাদ্দের প্যাকেজ থেকে শতকরা ৫℅ হারে অগ্রীম উৎকোচ নিয়ে কাজ পাইয়ে দেয় পছন্দসই ঠিকাদারদের।
এমনকি চাহিদা অনুযায়ী ৫% ঘুষের অধিক টাকা যদি কোন ঠিকাদার প্রস্তাব করেন তাহলে নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ দ্রুত সেই ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেয় বলে অনেকে দাবি করেছেন।সাম্প্রতিক সময় গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী থোক বরাদ্দের ১২ প্যাকেজ কাজ দরপত্র আহবান করার আগেই প্রতিটি প্যাকেজের বিপরীতে ৫% হারে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদার নির্বাচন করেছেন বলে একাধিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে।
জানা গেছে, ইতিমধ্যে ওই ১২টি পাকেজ “ওটিএম” পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার চেষ্টা চলছে। “এলটিএম” পদ্ধতি থেকে “ওটিএম” পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করলেই প্রতিটি প্যাকেজ থেকে শতকরা ৫% হারে ঘুষের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা নিজের পকেট ভারী করতে পারবেন দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা। অভিযোগ আছে, দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ সরকারি নির্দেশনা ও নীতিমালা উপেক্ষা করে শুধুমাত্র নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য কাজের গোপন রেট টাকার বিনিময়ে পোষ্য ঠিকাদারদের কাছে আগেভাগেই জানিয়ে দেয় বলে গুঞ্জন রয়েছে।
গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ এর গুটি কয়েক পোষ্য ঠিকাদার ছাড়া বাকি ঠিকাদারদের ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি বড় অংশ চায় “এলটিএম” পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ঠিকাদাররা “এলটিএম” পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায় খুলনা গণপূর্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীকে কৌশলে ভুল বুঝিয়ে শুধুমাত্র নিজের পকেট ভারী করার জন্য “ওটিএম” পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ।
চলতি বছরের প্রথমদিকে সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ গোপন রেট ফাঁস করার পাশাপাশি পছন্দের ঠিকাদারদের নিকট থেকে প্রতিটি প্যাকেজের বিপরীতে ৫% হারে ঘুষ গ্রহণ করে তাদের টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছেন। যাহার টেন্ডার আইডি নং- ১৯৪৯৪৮/ ১০৯৪৯৪৬/ ১০৯৪৯৪৪/ ১০৯৪৯৪৫/ ১০৯৪৯৮০৩/ ১০৯৪৯৮২/ ১০৯৪৯৮০১/ ১০৯৪৯৮৪/ ১০৯৪৯৮৫/ ১০৯৪৯৪০৭। এদিকে “ওটিএম” পদ্ধতিতে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে আগেভাগে ঠিকাদার নির্বাচন করায় শুধুমাত্র একজন করে ঠিকাদার অংশ গ্রহণ করার সুযোগ পায় যাহা সিপিটিইউ বহির্ভূত কাজ।
নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ এর ৪ থেকে ৫ জন পোষ্য ঠিকাদারদের নিকট থেকে ঘুষ বানিজ্যের মাধ্যমে কাজের টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার কারণে কাজ পাওয়া থেকে অধিকাংশ ঠিকাদার বঞ্চিত হচ্ছে। সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ কর্তৃক নানা অপকর্ম, দূর্নীতি, সেচ্ছাচারিতা ও লাগামহীন ঘুষ বানিজ্যের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুসে উঠেছে ঠিকাদার মহল সহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা।
এছাড়া ভুক্তভোগী ঠিকাদারদের একটি বড় অংশ এলটিএম পদ্ধতি প্যাকেজ নির্বাহী প্রকৌশলী কর্তৃক অসৎ উদ্দেশ্যে ওটিএম প্যাকেজ সুপারিশ প্রথা বিলুপ্তি দাবির পাশাপাশি নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ এর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয় সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কউছার মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াহিদ মুঠোফোনে আলাপকালে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা। তিনি কৌশল অবলম্বন করে বলেন ঠিকাদাররা আপনাকে ভুল বুঝিয়েছে।
এ বিষয় খুলনা গণপূর্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল এর সাথে মুঠোফোনে আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি বন্ধ পাওয়ায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


















