মোবাশ্বের নেছারী, কুড়িগ্রাম সংবাদদাতা :
কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীকে হুমকি ও মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও ডিলিট করার অভিযোগ উঠলে এনিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে জেলা পুলিশ। পুলিশের ওই বিবৃতিতে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (১১ এপ্রিল) রাতে জেলা পুলিশের মিডিয়া অফিসার ও গোয়েন্দা শাখার ওসি বজলার রহমান স্বাক্ষরিত একটি লিখিত বিবৃতি গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠানো হয়।
পুলিশের ওই লিখিত বিবৃতিতে দাবি করা হয়, কুড়িগ্রামের চিলমারী ও গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লোকদের মধ্যে উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা পুলিশের একটি ‘চৌকস’ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অস্ত্র উদ্ধারের জন্য বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। সময় একজন অজ্ঞাত উৎসুক তরুণ গোপন অভিযানের ভিডিও ধারণ শুরু করে। ওই তরুণ নাম-পরিচয় না দিয়েই ভিডিও ধারণ করতে থাকে। অভিযানের তথ্য ফেসবুকে ফাঁস হতে পারে আশঙ্কা করে তার মোবাইল ফোন থেকে ভিডিওটি ডিলিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এর আগে ১০ এপ্রিল চিলমারী ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হরিপুর শহরের মোড় এলাকায় চিলমারী-হরিপুর তিস্তা সেতুতে ঘুরতে যাওয়া মা-মেয়েকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় মাইকিং করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এ ঘটনার পর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশ সুপার মো. মাহফুজুর রহমান। এ সময় স্বদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি ও চিলমারী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সাদ্দাম সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশে ছবি এবং ভিডিও নিতে গেলে পুলিশ সুপার ফোন কেড়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
এ সময় পুলিশ সুপার সাংবাদিককে উদ্দেশ করে, ‘মিডিয়া ছুটাই দেব, চেনো আমাদের’! বলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠে।পুলিশের ওই বিবৃতির পর প্রশ্ন উঠেছে যেখানে দিনের বেলা সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে হয়েছিল, সেখানে রাতের বেলা পুলিশ এককভাবে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করার দাবি করছে।
বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ সুপারের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সেখানে থাকা রমনা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান গোলাম আশেক আকা বলেন, ‘পুলিশ সুপার এসে ইউনিয়নের দুই থানার মোড় ও সুন্দরগঞ্জের শহর মোড় সীমান্তে বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। আমি সেখানেই ছিলাম। এসময় কোনো অস্ত্র উদ্ধার করতেও দেখিনি। পরে এমন কোনো সংবাদও পাইনি।’
বিবৃতিতে সাংবাদিকের পরিচয় না জানা এবং ভিডিও ডিলিট করার ‘পরামর্শ’ দেওয়া প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী সাংবাদিক সাদ্দাম বলেন, ‘আমি আগে নিজের পরিচয় দিয়েছি। তারা আমাকে নিষেধ করলে ভিডিও করতাম না। কিন্তু পরিচয় দেওয়ার পরও এসপির নির্দেশে তার গানম্যান মোবাইল কেড়ে নিয়ে ছবি ও ভিডিও ডিলিট করে দিয়ে ফোন ফেরত দিয়েছেন। আমার পরিচয় না জানা নিয়ে পুলিশের এমন দাবি সঠিক নয়।
সাদ্দাম আরও বলেন, ‘বিষয়টি মিডিয়ায় প্রকাশের পর শুক্রবার রাতে এসপির গানম্যান ফোন করে ভুল স্বীকার করেছেন। তিনি এসপির বরাতে তার দপ্তরে চায়ের দাওয়াত দিয়েছেন। কিন্তু আমি যাব কি না, তা জানাইনি।


















