মোঃ ইব্রাহিম খলিল, সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
আলোচিত ওসি নোমান হোসেনকে ক্লোজড করে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্স সংযুক্ত করা হয়েছে।
শনিবার (১২ এপ্রিল) সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম সাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ থাকাকালীন সময় নোমান হোসেন এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা কর্মীদের আটক করে হত্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে উৎকোচ আদায়, আটক বানিজ্য, মাসিক মাসোহারা, ছাত্র জনতা হত্যা মামলার আসামি এবি,এম মোস্তাকিম আহমেদ কে গারদে না রেখে জামাই আদর, ঘুষ বানিজ্য, আ.লীগ নেতাদের থেকে ফ্রিজ উপহার নেওয়া, ফাঁড়ির জমি লিজ দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা সহ নানা অনিয়মের চিত্র ফুটে ওঠে।
এছাড়া ওসি নোমান হোসেন গত ০৬/০১/২৫ তারিখ আশাশুনি থানায় যোগদান করার পর থেকে ভারী হতে থাকে অপরাধ আর দূর্নীতির পাল্লা। যদিও এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমে বক্তব্য কালে ওসি নোমান হোসেন তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ কৌশলে এড়িয়ে যায়।
এদিকে ওসি নোমান হোসেন এর বিভিন্ন অপকর্ম ও দূর্নীতি, প্রিন্ট পত্রিকা সহ একাধিক অনলাইন পোর্টালে ঢালাওভাবে সংবাদ প্রকাশ হয়। সংবাদ প্রকাশের পর রীতিমতো নড়েচড়ে বসে পুলিশ প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার থেকে তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার কে নির্দেশ প্রদান করা হয়।
একই অভিযোগের প্রেক্ষিতে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল হক সাতক্ষীরা জেলা পুলিশকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। সাতক্ষীরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আশাশুনি থানার ওসি নোমান হোসেন এর বিরুদ্ধে পুলিশের দুইজন চৌকস কর্মকর্তাকে পৃথকভাবে তদন্তের জন্য দায়িত্বভার দেওয়া হয়।
তদন্তের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা হলেন, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মুকিত হাসান খাঁন, সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুর রহমান, তালা সার্কেল। আশাশুনি থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ নোমান হোসেন, বিপি নম্বর-৮৪১১১৪৫১৪৯ তার কর্মস্থলে নতুন অফিসার ইনচার্জ হিসেবে যোগদান করবেন মোঃ সামছুল আরেফিন, বিপি নম্বর- ৮৩১১১৪৩৬০৮।
এর আগে সামসুল আরেফিন সাতক্ষীরা কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অপরদিকে ওসি নোমান হোসেনকে দূর্নীতির দায়ে আশাশুনি থানা থেকে ক্লোজড করে সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয় সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম এর সাথে মুঠোফোনে কল দিয়ে আলাপের চেষ্টা কালে আলাপ কলটি গ্রহণ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


















