মো: সুমন বাপ্পি, কামারখন্দ সংবাদদাতা :
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দতারাবি নামাজের তিলওয়াতে ভুল ধরাকে কেন্দ্র করে মসজিদের ভেতরেই ইমামকে পিটিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক তরুণের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও চারজন।
বুধবার (১৯ মার্চ) রাতে তারাবিনামাজের পর উপজেলার রায়দৌলতপুর ইউনিয়নের চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের বায়তুল আমান জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রথম আলো জানিয়েছে, মো. আবদুল্লাহ চৌবাড়ী পশ্চিমপাড়া গ্রামের বায়তুল আমান জামে মসজিদের নিয়মিত ইমাম।
তবে রমজানে খতম তারাবি পড়ানোর জন্য আলাদা দুজন হাফেজ নিয়োগ করা হয়েছে। বুধবার তারাবি নামাজের সময় ওই হাফেজদের একজন কিরাতে ভুল করলে তৎক্ষণাৎ সংশোধন করে তারা নামাজ শেষ করেন। এরপর বিতর নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম আবদুল্লাহ মোনাজাত করার আগ মুহূর্তে হাফেজ মোহাম্মদ তালহা নামের স্থানীয় এক মুসল্লি তারাবির সময়ের তিলওয়াতের ভুল নিয়ে মাইকে কিছু বলবেন জানিয়ে সামনে এগিয়ে যান এবং ইমামের কাছ থেকে মাইক্রোফোনটি চান। তবে ইমাম তাকে মাইক্রোফোন দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এ সময় তালহা উত্তেজিত হয়ে ইমামকে থাপ্পড় ও ঘুষি মারেন। স্থানীয় মুসল্লিরা থামাতে গেলে মসজিদে থাকা কাঠের লাঠি তাদেরও এলোপাতাড়ি পেটাতে শুরু করেন তালহা। এ সময় মসজিদের মেঝেতে পড়ে যাওয়া ইমামকেও পেটান তিনি।
স্থানীয় মুসল্লিরা ইমামসহ আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে ইমাম মো. আবদুল্লাহকে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শিমুল তালুকদার বাংলা ভয়েজ কে বলেন, “মো. আবদুল্লাহ গতকাল দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর এক্স–রে করে দেখা যায়, তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে ওপরের অংশের হাড় ভেঙে গেছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়েছেন।”
এদিকে কয়েকজন মুসল্লি জানান, মোহাম্মদ তালহা নিজেও একজন হাফেজ। তার বাড়ি মসজিদের পাশে। তিনি ওই মসজিদে ইমামতি করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয় লোকজন তাকে ইমাম হিসেবে গ্রহণ করেননি। তাদের অভিযোগ, এর জেরে বেশ কয়েক দিন ধরে তালহা মসজিদে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করছিলেন। ওই ক্ষোভ থেকেই তিনি মসজিদের ইমামকে মারধর করেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ তালহা সাংবাদিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।
মসজিদ কমিটির সভাপতি মীর মুসতাহীদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, “মসজিদের ইমামকে পেটানোর বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। খবর পেয়ে পুলিশ রাতেই ছেলেটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে কয়েকজন মুরব্বি থানায় গিয়ে ঘটনার চূড়ান্ত বিচার করে দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার দিয়ে ছেলেটিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন।


















